শিক্ষা প্রতিবেদক :
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর দ্বিতীয়বার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলো এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। এরপর বৃস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় স্নাতক প্রথমবর্ষে ভর্তিচ্ছুদের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার একই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০ সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিগগিরই এ বিষয়ে বৈঠকে বসছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেও ভর্তি পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি কমিটি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে দ্বিমত নেই। তবে বয়স বিবেচনায় সেটি যেন তৃতীয়বার-চতুর্থবার দেয়া না হয়।
শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খান বলেন, আমাদের সন্তানরা এবং আমাদের ঘনিষ্ট জনের সন্তানরা অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে চায়। আমি অবশ্যই চাইবো ছেলে-মেয়েদের যেন দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগের দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয় ভর্তিচ্ছুরা। তারা নীলক্ষেত মোড় অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে সরকার এইচএসসিতে অটোপাস দেয়। যার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এই শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছুর সংখ্যা বাড়ে কয়েক গুণ। সেই অনুপাতে বাড়েনি উচ্চ শিক্ষার আসন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিলেকশন পদ্ধতি চালু করে ভর্তির আগেই অনেক শিক্ষার্থীকে ছেটে ফেলে। এতে অনেকেরই উচ্চ শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। আবার অনেকেই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তারা দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ চান। একই সঙ্গে ভর্তির আগে সিলেকশন করার পদ্ধতিও বাতিল চান তারা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্বের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিকবার ভর্তির সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সুযোগ চালু রাখলে ক্ষতির কিছু দেখি না। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেই সুযোগ চালু রাখবে। ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় না। বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। ভর্তি পরীক্ষায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, জালিয়াতি ঠেকানো এবং আসন খালি থাকার প্রবণতা কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরপর একই সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আরেকবার সুযোগ দেয়া যায় কিনা সেটি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
Leave a Reply